দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল নিখোঁজ যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ

  বিশেষ প্রতিনিধি    23-07-2026    24
দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল নিখোঁজ যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ

ময়মনসিংহে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ এক যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথা এবং পরে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম সোহেল মিয়া (২৬)। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্বজনদের ভাষ্য, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই সোহেল নিখোঁজ ছিলেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে তার বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এদিকে বুধবার বিকেলে সোহেলের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠে মরদেহের সন্ধান মেলে।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম জানান, মঙ্গলবার কলেজের জন্য একটি একাডেমিক ভবন বরাদ্দ হয়। ভবনের জন্য জমির পরিমাণ ও অবস্থান নির্ধারণ করতে বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী মাঠে যান। সেখানে গিয়ে তারা কলেজের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভাঙা এবং আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ টের পান। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মানুষের একটি মাথা দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মাথাটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। এরপর মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে খননকাজ শুরু হয়। মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রথমে দুটি গ্লাভস পাওয়া যায়। পরে কয়েক ফুট গভীর থেকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন দাবি করেন, ১৬ জুলাই রাত ৮টার পর সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। সোহেল ও সেলিম একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করলেও পারিশ্রমিক নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। সেলিম নিয়মিত সোহেলকে কম টাকা দিতেন এবং মারধরও করতেন। এ কারণে সোহেল পরে ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, সোহেল বাড়িতে আসার খবর পেয়ে সেলিম আবার কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সেলিম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

আলাল উদ্দিন বলেন, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি মাথার খুলি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর মরদেহের বাকি অংশও উদ্ধার হয়। দুর্গন্ধ না ছড়ালে হয়তো মরদেহের সন্ধানই মিলত না। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মাথাবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি পরিবার মরদেহটি তাদের সন্তান সোহেলের বলে দাবি করছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে শনাক্তের জন্য পিবিআইকে ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়াকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মরদেহ মাটিচাপা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন