জীবনের ভার যেন প্রতিদিন একটু একটু করে তাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। জঙ্গলের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে অসহায় জীবন-যাপন করছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা গ্রামের মৃত সুখীমুউদ্দিনের ছেলে ফালু মিয়া (৬০)।
চারপাশে ঘন জঙ্গল, নেই বিদ্যুৎ, নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। ঝুপড়িতেই একা পড়ে থাকেন তিনি। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। মা-বাবাকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। ছোটবেলায় আশ্রয় দেওয়া পালক বাবা-মাও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তাদের মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও।
জানা যায়, ৬ বছর আগে প্যারালাইসিসের কারণে এখন হাঁটতে কষ্ট হয় তার। ক্ষুধা লাগলে লাঠিতে ভর করে কিংবা হামাগুড়ি দিয়ে আশপাশের বাড়িতে যায় ফালু মিয়া। কেউ খাবার দিলে সেদিন তার চুলায় আগুন জ্বলে, পেটে খাবার যায়। আর কেউ না দিলে খালি পেটেই কাটে সেই দিন। অসুস্থ শরীর আর অসহায়ত্বের কাছে প্রতিদিন যেন হার মানতে হয় তাকে। ঝুপড়ির ভেতর বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ছে। শীতের কনকনে ঠান্ডায় নেই গায়ে দেওয়ার পর্যাপ্ত কাপড়। ঝড় এলেই আতঙ্কে কাটে সময়, কখন না উড়ে যায় মাথার ওপরের পলিথিনের ছাউনিটুকু। নেই কোনো টয়লেট, নেই চিকিৎসার ব্যবস্থা। চরম দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে এমন মানবেতর জীবন কাটালেও এখনো কোনো স্থায়ী সহায়তা পাননি ফালু মিয়া। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার চাওয়া খুব বেশি নয় একটি নিরাপদ ঘর, দুবেলা খাবার আর মানুষের মতো বেঁচে থাকার সামান্য সুযোগ।
ফালু মিয়া বলেন, আমার ঘরবাড়ি নাই। এই ঝুপড়িতে থাকি। এখানে থাকতে আমার কষ্ট হয়। বাড়ি বাড়ি চেয়ে খাই। এখানে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নাই। রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকি। রাতে অনেক সময় অন্ধকারেই থাকি। আমার দুনিয়াতে কেউ নাই।
স্থানীয় মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ফালু মিয়া সহজ সরল একজন মানুষ ছিল। কয়েকটা বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ে করেও শান্তি বলতে কিছু পায় নাই। সে যখন এলাকায় আসে কিছুদিন থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্যারালাইসি হওয়ায় এখন হাঁটা-চলা করতে কষ্ট হয়। লাঠি ভর করে চলাচল করছে। জমি যা ছিল আগেই বিক্রি করে ফেলেছে। এখন সে জঙ্গলের ভেতর ঝুপড়ির মধ্যে জীবন-যাপন করছে। তার এখন করুণ দশা। আশপাশে কেউ যদি তাকে খেতে দেয় তাহলে সে খেতে পারে। তা না হলে অনাহারেই তার দিন কাটে।
স্থানীয় সোরহাব আলী বলেন, হঠাৎ করে অসুস্থতা থেকে তার প্যারালাইসিস হয়ে গেছে। তার চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। তার দুনিয়াতে কিছুই নাই। মা- বাবা, জমি, ঘরবাড়ি কিছুই নাই। সে এখন ঝুপড়ি ঘরে অসহায় জীবন-যাপন করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, ফালু মিয়ার এই দুনিয়াতে মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই। থাকার মতো জায়গাও নেই। কোন কিছু না থাকায় জঙ্গলের মধ্যে ঝুপড়িতে থাকে। ফালু এলাকায় থাকে না। ৭ বছর ধরে প্যারালাইসিসে চলাফেরা তেমন করতে পারে না। কোন এলাকার ভোটার হয়ছে তাও বলতে পারছে না। কথাও ভালো ভাবে বলতে পারে না। এইজন্য ভাতার কার্ড করে দিতে পারছি না। নিজে যে রান্না করে খাবে, তাও খেতে পারে না। এই ঝুপড়ির মধ্যেই তার দিন-রাত কেটে যাচ্ছে। কেউ দিলে খেতে পারে, না দিলে অনাহারে থাকে। এভাবেই সে জীবন-যাপন করছে। আমি মাঝে মাঝে তাকে সহযোগিতার করার চেষ্টা করি।
সখীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কাজ হলো ভাতা করে দেওয়া। ৬ মাস পর পর ভাতার কাজ আসে তখন আমরা ভাতা করে দিতে পারব। আমাদের মাঝে মাঝে কিছু কর্মসূচি আসে। চিকিৎসার জন্য এখন কিছু খরচ দিতে পারব। অন্য যে সকল সহযোগিতা রয়েছে তা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ইউএনও করতে পারবেন।
জঙ্গলের ঝুপড়িতে ফালু মিয়ার অসহায় জীবন-যাপন
জীবনের ভার যেন প্রতিদিন একটু একটু করে তাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। জঙ্গলের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে অসহায় জীবন-যাপন করছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা গ্রামের মৃত সুখীমুউদ্দিনের ছেলে ফালু মিয়া (৬০)।
চারপাশে ঘন জঙ্গল, নেই বিদ্যুৎ, নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। ঝুপড়িতেই একা পড়ে থাকেন তিনি। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। মা-বাবাকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। ছোটবেলায় আশ্রয় দেওয়া পালক বাবা-মাও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তাদের মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও।
জানা যায়, ৬ বছর আগে প্যারালাইসিসের কারণে এখন হাঁটতে কষ্ট হয় তার। ক্ষুধা লাগলে লাঠিতে ভর করে কিংবা হামাগুড়ি দিয়ে আশপাশের বাড়িতে যায় ফালু মিয়া। কেউ খাবার দিলে সেদিন তার চুলায় আগুন জ্বলে, পেটে খাবার যায়। আর কেউ না দিলে খালি পেটেই কাটে সেই দিন। অসুস্থ শরীর আর অসহায়ত্বের কাছে প্রতিদিন যেন হার মানতে হয় তাকে। ঝুপড়ির ভেতর বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ছে। শীতের কনকনে ঠান্ডায় নেই গায়ে দেওয়ার পর্যাপ্ত কাপড়। ঝড় এলেই আতঙ্কে কাটে সময়, কখন না উড়ে যায় মাথার ওপরের পলিথিনের ছাউনিটুকু। নেই কোনো টয়লেট, নেই চিকিৎসার ব্যবস্থা। চরম দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে এমন মানবেতর জীবন কাটালেও এখনো কোনো স্থায়ী সহায়তা পাননি ফালু মিয়া। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার চাওয়া খুব বেশি নয় একটি নিরাপদ ঘর, দুবেলা খাবার আর মানুষের মতো বেঁচে থাকার সামান্য সুযোগ।
ফালু মিয়া বলেন, আমার ঘরবাড়ি নাই। এই ঝুপড়িতে থাকি। এখানে থাকতে আমার কষ্ট হয়। বাড়ি বাড়ি চেয়ে খাই। এখানে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নাই। রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকি। রাতে অনেক সময় অন্ধকারেই থাকি। আমার দুনিয়াতে কেউ নাই।
স্থানীয় মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ফালু মিয়া সহজ সরল একজন মানুষ ছিল। কয়েকটা বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ে করেও শান্তি বলতে কিছু পায় নাই। সে যখন এলাকায় আসে কিছুদিন থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্যারালাইসি হওয়ায় এখন হাঁটা-চলা করতে কষ্ট হয়। লাঠি ভর করে চলাচল করছে। জমি যা ছিল আগেই বিক্রি করে ফেলেছে। এখন সে জঙ্গলের ভেতর ঝুপড়ির মধ্যে জীবন-যাপন করছে। তার এখন করুণ দশা। আশপাশে কেউ যদি তাকে খেতে দেয় তাহলে সে খেতে পারে। তা না হলে অনাহারেই তার দিন কাটে।
স্থানীয় সোরহাব আলী বলেন, হঠাৎ করে অসুস্থতা থেকে তার প্যারালাইসিস হয়ে গেছে। তার চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। তার দুনিয়াতে কিছুই নাই। মা- বাবা, জমি, ঘরবাড়ি কিছুই নাই। সে এখন ঝুপড়ি ঘরে অসহায় জীবন-যাপন করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, ফালু মিয়ার এই দুনিয়াতে মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই। থাকার মতো জায়গাও নেই। কোন কিছু না থাকায় জঙ্গলের মধ্যে ঝুপড়িতে থাকে। ফালু এলাকায় থাকে না। ৭ বছর ধরে প্যারালাইসিসে চলাফেরা তেমন করতে পারে না। কোন এলাকার ভোটার হয়ছে তাও বলতে পারছে না। কথাও ভালো ভাবে বলতে পারে না। এইজন্য ভাতার কার্ড করে দিতে পারছি না। নিজে যে রান্না করে খাবে, তাও খেতে পারে না। এই ঝুপড়ির মধ্যেই তার দিন-রাত কেটে যাচ্ছে। কেউ দিলে খেতে পারে, না দিলে অনাহারে থাকে। এভাবেই সে জীবন-যাপন করছে। আমি মাঝে মাঝে তাকে সহযোগিতার করার চেষ্টা করি।
সখীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কাজ হলো ভাতা করে দেওয়া। ৬ মাস পর পর ভাতার কাজ আসে তখন আমরা ভাতা করে দিতে পারব। আমাদের মাঝে মাঝে কিছু কর্মসূচি আসে। চিকিৎসার জন্য এখন কিছু খরচ দিতে পারব। অন্য যে সকল সহযোগিতা রয়েছে তা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ইউএনও করতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: August 21, 2026, 6:41 pm