বৃহঃস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি-২৬, ২০২৬
একের পর এক খুন আর কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মানুষ। অল্প সময়ে অনেক খুনের ঘটনা ঘটলেও থানা পুলিশের যেন কোনো গা নেই। একটি হত্যার ঘটনায় মামলাও নেয়নি তারা। এছাড়া ক্রিকেট মাঠ থেকে ধরে এনে যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশি অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিরাও।
অভিযোগ উঠেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে থানা পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশই অপরাধীদের শেল্টার দিচ্ছে। এলাকার রাজনীতিবিদরা বিষয়টি নিয়ে এবার কথা বলা শুরু করেছেন। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে ১৫ দিনের আল্টিমেটামও দিয়েছেন। তারপরও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
খুনের পর খুন, এলাকায় আতঙ্ক
গত ৯ জুন সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ফজল আহমদ (৫৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি সোনাকানিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুব পাড়ার সাচি মিয়ার ছেলে।
এর আগে ২৯ মে রাত ৮টার দিকে সাতকানিয়ার আমিলাইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ আমিলাইশে মো. মহিউদ্দিন (২৫) নামে এক পিকআপচালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার আগে তাকে গাড়িসহ আটক করে কয়েক দফা পেটানো হয়।
এ ঘটনার একদিন আগেই খুন হন এক আওয়ামী লীগ কর্মী। উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকায় ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদুল হক (৩৩) নামে ওই কর্মীকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে মো. শাহাবুদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সাঁচি বেপারী পাড়ার নুর আহমদের ছেলে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
গত বছরের ২১ নভেম্বর ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদিঘী এলাকায় ছুরিকাঘাতে মো. শাহাদাত হোসেন (৩৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিহত হন। এ সময় তার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজও ছুরিকাঘাতে আহত হন। আগে থেকে বিরোধের জেরে তারেক নামে একজনের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার দিন আবু তালেব নামে নিহত শাহাদাতের এক চাচার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে তারেকসহ আরও কয়েকজন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তারেকসহ অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে শাহাদাতের দুই ভাই হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তারাও আহত হন।
হত্যা মামলা নেয়নি থানা!
ছদাহা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ কর্মী দিনমজুর মোহাম্মদুল হক খুন হন দিনে-দুপুরে। ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মিঠার দোকান এলাকায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ৫ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
ঘটনার পর নিহতের পরিবার মামলা করতে গেলে সেটি নেয়নি সাতকানিয়া থানা পুলিশ। ঘটনার দিন রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় স্বজনদের বসিয়ে রাখা হয়। এরপরও কয়েক দফায় মামলা করার জন্য থানায় যান নিহতের স্বজনরা। কিন্তু প্রতিবারই প্রভাবশালী মহলের চাপের কথা জানিয়ে মামলা নিতে রাজি হয়নি পুলিশ। পরে শর্ত দেওয়া হয়, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ও তার অনুসারীদের নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দিলে মামলা নেওয়া হবে। এতে বাদীপক্ষ রাজি হননি। তাই শেষ পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
অবশেষে গত ৩ জুন চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন নিহত মোহাম্মদুল হকের বড় ভাই এনামুল হক (৪১)। আদালত সাতকানিয়া থানার ওসিকে ফৌজদারি অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম দিদার উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, হত্যা সর্বোচ্চ অপরাধ। যেটির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ ধরনের অপরাধে থানা মামলা না নেওয়া মানে ওসি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেননি। এতে করে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে এবং থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হচ্ছে।
অস্ত্র দিয়ে নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর অভিযোগ
গত ১৮ জুন সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নে আতিক নামে এক গাড়িচালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ভাঙা বন্দুক দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ হেফাজতে আতিককে ভর্তি করানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে রীতিমতো বাহিনীর আদলে এলাকায় অবস্থান নিয়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়। স্থানীয়দের কাছে এই সন্ত্রাসীরা ‘সাইফুল বাহিনী’ নামে পরিচিত। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সব জেনেও পুলিশ সন্ত্রাসীচক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো নিরীহ মানুষকে বন্দুক দিয়ে ফাঁসিয়ে সন্ত্রাসীদের আশকারা দিচ্ছে। ঘটনার মূল হোতা সাইফুল কিশোর গ্যাং নিয়ে প্রতিদিন অস্ত্রের মহড়া দেয়। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না থানা পুলিশ।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাতকানিয়া থানার ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়ার বিলে ক্রিকেট খেলার সময় তানভীর হোসেন তুর্কি নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। রাতে তার সামনে অস্ত্র ও কার্তুজ দিয়ে ছবি তুলে অস্ত্র পেয়েছে বলে দাবি করা হয়। ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন এসআই আব্দুর রহিম। এজাহারে অস্ত্র বিক্রির চেষ্টাকালে তুর্কির কোমর থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র ও চারটি কার্তুজ উদ্ধারের অভিযোগ আনা হয়। অথচ তুর্কি গ্রেপ্তার হয়েছিল খেলার মাঠ থেকে।
১৮ ফেব্রুয়ারি তুর্কিকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো এবং থানা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ আনে তার পরিবার।
পরে জানা যায়, ঘটনার অন্তত দুমাস আগে সাতকানিয়া থানার এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় সোর্সের এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয়। বলা হয় তুর্কিকে ধরে অস্ত্রসহ চালান দেওয়া হবে। তাদের ওই কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে শুরু হয় নানা সমালোচনা। সমালোচনার মুখে ক্রিকেট খেলার সময় মাঠ থেকে আটকের পর অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় সাতকানিয়া থানার এসআই আব্দুর রহিমকে প্রত্যাহার করা হয়।
এক সাইফুল বাহিনীর যত তাণ্ডব
চরতী, আমিলাইশ ও নলুয়া- তিন ইউনিয়নেই সাইফুল বাহিনীর দাপট রয়েছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সাইফুলের বাড়ি চরতী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার মৃত নুর আহমেদের ছেলে সাইফুল একসময় প্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন। ২০১৭ সালের দিকে দেশে ফিরে এলাকায় গঠন করেন কিশোর গ্যাং। সাঙ্গু নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন। একই সঙ্গে এলাকার ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি।
ইয়াবা এবং বালু বিক্রির টাকায় সাইফুল তার বাহিনীর জন্য অস্ত্র কেনেন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। সাতকানিয়ার রাজনীতিতে যখন যে প্রভাবশালী ছিলেন তার ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন এই সাইফুল। ২০২২ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু রেজা নদভীর সহায়তায় ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হন তিনি। এরপর তাকে ছেড়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতালেবের কাছে আশ্রয় নেন সাইফুল।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে মোতালেব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাইফুল এবং তার বাহিনী। গত ছয় মাসে সাতকানিয়ার চরতী-আমিলাইশ এলাকায় অন্তত ৩০টি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে এই বাহিনী। থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর মধ্যে কমপক্ষে ২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। বাকিরা ভয়ে মুখ খোলেনি।
জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় দক্ষিণ চরতীতে নৌকার সমর্থকদের বাড়ি-ঘর ও দোকানে হামলা ও লুটপাট চালায় সাইফুল বাহিনী। এই সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াছ শাহীনের ফার্মাসি ও কৃষক লীগ নেতা ফারুকের বাড়ি ও ডেকোরেশনের দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। চরতী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকে বর্তমান চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীকে মারধর করে সাইফুল বাহিনী। দক্ষিণ চরতী এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে পরিবারসহ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তারা। নির্বাচনের পর থেকে এখনো ঘর ছাড়া নুর মোহাম্মদের পরিবার। চরতী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মাইনুদ্দিনকে অপহরণ করে মারধর করে এই বাহিনী।
নির্বাচনের আগে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দক্ষিণ চরতি কাটাখালী ব্রিজের পাশে নৌকার পথ সভায় অস্ত্র ও লাঠি-সোঁটা নিয়ে হামলা চালায় সাইফুল ও তার বাহিনী। এর দুই দিন আগে ১৯ ডিসেম্বরও নৌকার পথসভা শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াছ শাহীনকে মারধর করে তারা।
২০১৮ সালে সাইফুল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভিটে-মাটি ছেড়ে যায় দক্ষিণ চরতীর ১০টি পরিবার। এসব পরিবারের অর্ধ শতাধিক সদস্য দীর্ঘ এক বছর নিজেদের ভিটে বাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তুর মতো দিনযাপন করে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ
গত ২১ জুন সাতকানিয়ার কেরানিহাটে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় তিনি সাতকানিয়া থানার ওসির উদ্দেশে বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাতকানিয়াকে কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত করতে হবে। তা না পারলে সাতকানিয়ায় আপনাদের থাকার দরকার নেই। আপনারা কেন, কী কারণে, কোন উদ্দেশ্য, কার কথায় কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? ১৫ দিনের মধ্যে কিশোর গ্যাং মুক্ত করতে না পারলে বুঝে নেব পুলিশ বিশেষ কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তখন আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওই জনসভায় উত্তর সাতকানিয়া যুবলীগের সভাপতি ওসমান আলী বলেন, উন্নয়ন অনেক হয়েছে। এখন শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এই কেরানিহাটে সন্ধ্যা হলেই একাধিক কিশোর গ্যাং ছিনতাই, পকেট মার, অপহরণ, জিম্মিসহ মাদকের কারবারে নেমে পড়ে। এদের কাছে ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী এখন অসহায়। কিশোর গ্যাংমুক্ত সাতকানিয়া চাই আমরা।
এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে সেলফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এটি দেখেও তিনি সাড়া দেননি।
যা বলছে জেলা পুলিশ
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাতকানিয়ার ওসিকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আমি শুনিনি। তবে সাতকানিয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে থানার ওসির কাছ থেকে জেনেছি। তিনি জানিয়েছেন, মামলার বাদী থানায় এসেছিলেন। তাদের এজাহার দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না দিয়ে আদালতে গিয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়টি নিয়ে তো সরাসরি বলা যায় না। তবে এই অভিযোগে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করছেন। কমিটির প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।