আ. লীগ নেতাকে বিএনপি নেতা বানিয়ে শোডাউন

  বিশেষ প্রতিনিধি    24-06-2025    98
আ. লীগ নেতাকে বিএনপি নেতা বানিয়ে শোডাউন

ফরিদপুরের সালথায় কারাগারে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ‘বিএনপি’র বারবার নির্যাতিত নেতা’ হিসেবে তুলে ধরে বিএনপির কর্মী সম্মেলনের দিনে শোডাউন করা হয়েছে। সোমবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ভিডিওটি ভাইরাল হয়।

রোববার দুপুরে সালথা উপজেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনের আগে অন্তত দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল, নসিমন, ভ্যান ও ইজিবাইক নিয়ে এই শোডাউন হয়। এতে নেতৃত্ব দেন কারারুদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুদ্দীন মাতুব্বরের ভাই ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুনছুর মাতুব্বর।

জানা যায়, সালথা উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে বিএনপির কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানারে শোভাযাত্রাটি শুরু হয় সকাল ১০টার দিকে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এটি সম্মেলনস্থলে পৌঁছে। শ্লোগান দিতে দিতে শোডাউনকারীরা সেখানে যোগ দেন। এ সময় ব্যানারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি নুরুদ্দীন মাতুব্বরের বড় ছবি এবং তার পক্ষে সম্মেলন সফল করার বার্তা লেখা ছিল।

ব্যানারটিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও ফরিদপুর-২ আসনের প্রয়াত সাবেক এমপি ওবায়দুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের ছবিও ছিল। ব্যানারে লেখা ছিল— “বার বার নিযাতিত বিএনপি নেতা মো. নুরুদ্দীন মাতুব্বরের পক্ষ থেকে শামা আপার হাতকে শক্তিশালী করতে ২২ জুন সালথা উপজেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলন সফল হোক। প্রচারে: গট্টি ইউনিয়ন বিএনপি।”

উল্লেখ্য, মো. নুরুদ্দীন মাতুব্বর (৫৫) উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং তার ভাই মো. মুনছুর মাতুব্বর (৪৫) উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তারা দুজনেই গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সালথা থানায় হামলা, অস্ত্র লুট ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় নুরুদ্দীনকে আসামি করা হয়। গত ২৯ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করে সালথা থানা-পুলিশ। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন।

শোডাউনের নেতৃত্বদানকারী মুনছুর মাতুব্বর বলেন, ~আমার ভাই আজীবন বিএনপি করেছেন, এখনো বিএনপি করেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন।“ তবে তিনি নিজে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন কি না—এ প্রশ্নে বলেন, “আমার জানা নেই। কোনো কাগজও দেখিনি।“

এ দাবিকে অস্বীকার করে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী সাব্বির আলী বলেন,নুরুদ্দীন মাতুব্বর আমাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং তার ভাই মুনছুর উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানও বলেন,নুরুদ্দীন মাতুব্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, অস্ত্র ও থানায় হামলার একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া বলেন,আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বিএনপিতে আসার সুযোগ নেই। যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে।

সারাদেশ-এর আরও খবর