ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনের কার্যক্রমে ব্যাংক খাতের দুর্নীতি দমন, শেয়ারবাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে মুখর ছিল সংসদ।
অধিবেশনে ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলাম করে আমানতকারীদের সঞ্চয় ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হলে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশ্বস্ত করেন যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সুদসহ টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং কোনো ‘হেয়ার কাট’ রাখা হবে না।
এছাড়া দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আগামী ১০ বছরে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে ৮৬ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা, মিয়ানমারের জান্তাসহ সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার, চীনে কাঁঠাল রপ্তানি এবং মেয়েদের ডিগ্রি বা অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার মতো সরকারের একাধিক দূরদর্শী ও যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম অংশে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করার পর, বাদ আসর পরবর্তী সেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদে ব্যাংক লুটেরা এবং ব্যাংক খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নোটিশে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং মালিক পক্ষের অর্থ পাচারের কারণে আজ লক্ষ লক্ষ আমানতকারী তাদের টাকা তুলতে পারছে না। এই টাকা বিলাসিতার জন্য নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, একজন মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের টিউশন ফি, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন বাঁচানোর মূলধন, কষ্টে অর্জিত টাকা; কারও পেনশনের সঞ্চয়, কারও সারাজীবনের কষ্টার্জিত আয় বিশ্বাস করে ব্যাংকে রেখেছিল। সমস্ত লুটেরা এবং ব্যাংক খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার এ ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ প্রণীত হয়েছে। এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক তথা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ-পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এটি রেজুলেশন কৌশলের অধীনে গৃহীত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা তহবিলের বিধানের আওতায় নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত আমানতকারীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’ এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। রেজুলেশনের আওতায় ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলেশন স্কিম মোতাবেক আমানতের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত পাচ্ছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ এর ৫৭ ধারায় রেজুলেশনের আওতাধীন ব্যাংকের পাওনা আদায়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী ব্যক্তি কর্তৃক ব্যাংকের সম্পদ অথবা তহবিল হতে অর্জিত সকল আয়, সম্পত্তি, অধিকার এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণপূর্বক বিক্রয় বা নিলামের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এছাড়া ফৌজদারি ক্রিমিনাল মামলার পাশাপাশি দেওয়ানি সিভিল পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা এবং অবৈধভাবে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রেহানা আক্তার রানু বলেন, যারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, ওই সমস্ত ব্যাংক ডাকাত, ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, ফিরিয়ে এনে তাদেরকে ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে এই টাকা আদায় করতে হবে। মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, ‘হেয়ার কাট’ নামক ‘মরণ কাট’ প্রত্যাহার করে ৭৫ লাখ গ্রাহককে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আপনার মন্ত্রণালয়ের আছে কি না?
আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে, হেয়ার কাট থাকবে না
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি ভীত ও সন্তুষ্ট বোধ করছি। অলমোস্ট ওয়ার্নিংয়ের মতো বক্তব্য এসেছে। আমি আগেই বলেছি, এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে এবং একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব এটার সঠিক সমাধান দেওয়া। ইতোমধ্যে আমি আগেও বলেছি সংসদে, যারা আমানতকারী তাদের আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। তবে একটু ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ এই ব্যাংকগুলো সবগুলোই লোকসানের মধ্যে আছে এবং লোকসান কিন্তু প্রতিদিন বাড়ছে। লোকসানি একটা ব্যাংক যেখানে তার আমানত ফিরিয়ে দিতে পারছে না, সেখানে তাকে সুদ দেওয়া যে কত কঠিন, সেটা আপনাদের বুঝতে হবে। জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা নিশ্চিতভাবে তাদের আমানত এবং সুদ ফেরত দেব। কিন্তু এটার জন্য একটা সময়ের প্রয়োজন। এই ব্যাংকগুলোতে ‘হেয়ার কাট’ থাকবে না।
বিদ্যুৎ ইস্যুতে বিব্রত
গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুৎ এখন বড় ইস্যু উল্লেখ করে জামালপুর-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, আমরা যখন গ্রামে যাই, এই ইস্যু আমাদেরকে বিব্রত করে, অস্বস্তিতে ফেলে।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ- এই দুই উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৩ মেগাওয়াট, বর্তমানে প্রাপ্তি হচ্ছে ২৭ মেগাওয়াট। অফ-পিক আওয়ারে চাহিদা ৩৮ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫ মেগাওয়াট। ফলে গড়ে ৩৪-৩৮ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে কবে নাগাদ উত্তরণ সম্ভবপর হবে এবং কবে নাগাদ আমরা আমাদের নির্বাচনি এলাকায় বিদ্যুতের গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে পারব ও লোডশেডিংয়ের হাত থেকে পরিত্রাণ দিতে পারব?
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ময়মনসিংহ এলাকায় ট্রান্সমিশন লাইনে সমস্যা রয়েছে। এজন্য আমরা ট্রান্সমিশন লাইনের প্রকল্প গ্রহণ করেছি। ট্রান্সমিশনের জন্য বড় বড় টাওয়ার করতে হয়। কিন্তু জমির মালিকরা মামলা করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। এজন্য এতদিন ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা যায়নি।
খাসজমি উদ্ধার ও ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকারি খাসজমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ভূমিদস্যুমুক্ত সরকারি খাসজমি নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মধ্যে এসব জমি বিতরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যেই সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে খাসজমি উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা পর্যন্ত জমি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। অতীতে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতা এবং স্থানীয় ভূমিদস্যুদের দখলের কারণে অনেক সরকারি জমি বেহাত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেসব জমি উদ্ধার করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণে কাজ করছে।
শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, শেয়ারমার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজারো বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তা উদ্ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ ও বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির অভাব কারণ হিসেবে রয়েছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত দুটি পৃথক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন সংযোজন এবং বিমান বাহিনীতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পনীতি, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (ডিআইজেড) এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের (টিওটি) মাধ্যমে সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
লিখিত জবাবে তিনি আরও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীতে আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি), কাউন্টার ইউএভি এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুধাবনের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিমানযোগে অভিযান পরিচালনা, আকাশপথে সৈন্য ও সরঞ্জাম স্থানান্তর এবং নদীপথে পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বাহিনীর কৌশলগত ও অপারেশনাল গতিশীলতা আরও সুসংহত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।
নৌবাহিনী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সমুদ্রে নজরদারি জোরদারে বর্তমানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও আকাশযান সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিমান বাহিনী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’-এর আওতায় বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ইউএভি সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, প্যাসিভ ডিটেকশন সিস্টেম, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং লং রেঞ্জ রাডার ও এয়ার ট্রাফিক সার্ভেইলেন্স রাডার সংযোজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বৃহত্তর বগুড়ায় একটি ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংক খাতে দুর্নীতি দমন, পুঁজিবাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা সংসদে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনের কার্যক্রমে ব্যাংক খাতের দুর্নীতি দমন, শেয়ারবাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে মুখর ছিল সংসদ।
অধিবেশনে ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলাম করে আমানতকারীদের সঞ্চয় ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হলে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশ্বস্ত করেন যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সুদসহ টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং কোনো ‘হেয়ার কাট’ রাখা হবে না।
এছাড়া দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আগামী ১০ বছরে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে ৮৬ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা, মিয়ানমারের জান্তাসহ সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার, চীনে কাঁঠাল রপ্তানি এবং মেয়েদের ডিগ্রি বা অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার মতো সরকারের একাধিক দূরদর্শী ও যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম অংশে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করার পর, বাদ আসর পরবর্তী সেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদে ব্যাংক লুটেরা এবং ব্যাংক খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নোটিশে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং মালিক পক্ষের অর্থ পাচারের কারণে আজ লক্ষ লক্ষ আমানতকারী তাদের টাকা তুলতে পারছে না। এই টাকা বিলাসিতার জন্য নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, একজন মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের টিউশন ফি, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন বাঁচানোর মূলধন, কষ্টে অর্জিত টাকা; কারও পেনশনের সঞ্চয়, কারও সারাজীবনের কষ্টার্জিত আয় বিশ্বাস করে ব্যাংকে রেখেছিল। সমস্ত লুটেরা এবং ব্যাংক খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার এ ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ প্রণীত হয়েছে। এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক তথা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ-পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এটি রেজুলেশন কৌশলের অধীনে গৃহীত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা তহবিলের বিধানের আওতায় নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত আমানতকারীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’ এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। রেজুলেশনের আওতায় ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলেশন স্কিম মোতাবেক আমানতের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত পাচ্ছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ এর ৫৭ ধারায় রেজুলেশনের আওতাধীন ব্যাংকের পাওনা আদায়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী ব্যক্তি কর্তৃক ব্যাংকের সম্পদ অথবা তহবিল হতে অর্জিত সকল আয়, সম্পত্তি, অধিকার এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণপূর্বক বিক্রয় বা নিলামের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এছাড়া ফৌজদারি ক্রিমিনাল মামলার পাশাপাশি দেওয়ানি সিভিল পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা এবং অবৈধভাবে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রেহানা আক্তার রানু বলেন, যারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, ওই সমস্ত ব্যাংক ডাকাত, ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, ফিরিয়ে এনে তাদেরকে ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে এই টাকা আদায় করতে হবে। মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, ‘হেয়ার কাট’ নামক ‘মরণ কাট’ প্রত্যাহার করে ৭৫ লাখ গ্রাহককে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আপনার মন্ত্রণালয়ের আছে কি না?
আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে, হেয়ার কাট থাকবে না
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি ভীত ও সন্তুষ্ট বোধ করছি। অলমোস্ট ওয়ার্নিংয়ের মতো বক্তব্য এসেছে। আমি আগেই বলেছি, এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে এবং একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব এটার সঠিক সমাধান দেওয়া। ইতোমধ্যে আমি আগেও বলেছি সংসদে, যারা আমানতকারী তাদের আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। তবে একটু ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ এই ব্যাংকগুলো সবগুলোই লোকসানের মধ্যে আছে এবং লোকসান কিন্তু প্রতিদিন বাড়ছে। লোকসানি একটা ব্যাংক যেখানে তার আমানত ফিরিয়ে দিতে পারছে না, সেখানে তাকে সুদ দেওয়া যে কত কঠিন, সেটা আপনাদের বুঝতে হবে। জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা নিশ্চিতভাবে তাদের আমানত এবং সুদ ফেরত দেব। কিন্তু এটার জন্য একটা সময়ের প্রয়োজন। এই ব্যাংকগুলোতে ‘হেয়ার কাট’ থাকবে না।
বিদ্যুৎ ইস্যুতে বিব্রত
গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুৎ এখন বড় ইস্যু উল্লেখ করে জামালপুর-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, আমরা যখন গ্রামে যাই, এই ইস্যু আমাদেরকে বিব্রত করে, অস্বস্তিতে ফেলে।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ- এই দুই উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৩ মেগাওয়াট, বর্তমানে প্রাপ্তি হচ্ছে ২৭ মেগাওয়াট। অফ-পিক আওয়ারে চাহিদা ৩৮ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫ মেগাওয়াট। ফলে গড়ে ৩৪-৩৮ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে কবে নাগাদ উত্তরণ সম্ভবপর হবে এবং কবে নাগাদ আমরা আমাদের নির্বাচনি এলাকায় বিদ্যুতের গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে পারব ও লোডশেডিংয়ের হাত থেকে পরিত্রাণ দিতে পারব?
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ময়মনসিংহ এলাকায় ট্রান্সমিশন লাইনে সমস্যা রয়েছে। এজন্য আমরা ট্রান্সমিশন লাইনের প্রকল্প গ্রহণ করেছি। ট্রান্সমিশনের জন্য বড় বড় টাওয়ার করতে হয়। কিন্তু জমির মালিকরা মামলা করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। এজন্য এতদিন ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা যায়নি।
খাসজমি উদ্ধার ও ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সরকারি খাসজমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ভূমিদস্যুমুক্ত সরকারি খাসজমি নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মধ্যে এসব জমি বিতরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যেই সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে খাসজমি উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা পর্যন্ত জমি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। অতীতে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতা এবং স্থানীয় ভূমিদস্যুদের দখলের কারণে অনেক সরকারি জমি বেহাত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেসব জমি উদ্ধার করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণে কাজ করছে।
শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, শেয়ারমার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজারো বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেয়ারমার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তা উদ্ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ ও বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির অভাব কারণ হিসেবে রয়েছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত দুটি পৃথক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন সংযোজন এবং বিমান বাহিনীতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পনীতি, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (ডিআইজেড) এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের (টিওটি) মাধ্যমে সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
লিখিত জবাবে তিনি আরও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীতে আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি), কাউন্টার ইউএভি এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুধাবনের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিমানযোগে অভিযান পরিচালনা, আকাশপথে সৈন্য ও সরঞ্জাম স্থানান্তর এবং নদীপথে পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বাহিনীর কৌশলগত ও অপারেশনাল গতিশীলতা আরও সুসংহত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।
নৌবাহিনী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সমুদ্রে নজরদারি জোরদারে বর্তমানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও আকাশযান সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিমান বাহিনী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’-এর আওতায় বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ইউএভি সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, প্যাসিভ ডিটেকশন সিস্টেম, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং লং রেঞ্জ রাডার ও এয়ার ট্রাফিক সার্ভেইলেন্স রাডার সংযোজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বৃহত্তর বগুড়ায় একটি ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: July 22, 2026, 5:42 am