সেদিনের সকালটি অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। তবে সেটিই যে একটি পরিবারের জীবনের শেষ স্বাভাবিক সকাল হয়ে থাকবে, তা কেউ জানত না। ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলের পোশাক পরে, ব্যাগ কাঁধে নিয়ে যে শিশুটি বের হয়েছিল, সে আর ফিরে আসেনি ঘরে। ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার পর ফাতেমা আক্তার আনিশার পরিবারের কাছে প্রতিটি দিন এখন স্মৃতির ভারে নুয়ে থাকা এক দীর্ঘ অপেক্ষা।
‘সেদিন যদি জানতাম, আমার সন্তান স্কুলে গিয়ে আর ফিরবে না, কোনো দিন তাকে স্কুলে যেতে দিতাম না’—এই আক্ষেপ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন আনিশার স্বজনেরা। একসময় যে ঘর ভরে থাকত তার হাসি, খুনসুটি আর ছোট ছোট আবদারে, সেই ঘরেই এখন বাজে হারানোর নীরবতা। আনিশার টিফিন ভাগ করে খাওয়া, ছোট ভাই ওসমানের সঙ্গে ঝগড়া, আবার কিছুক্ষণ পরই মিলেমিশে যাওয়া—এসব স্মৃতিই এখন পরিবারের কাছে বেঁচে থাকার অবলম্বন।
আনিশার মতো যে শিশুরা প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুলে গিয়েছিল, তাদের অনেকেই আর ঘরে ফেরেনি। উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই দিনেই। হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের স্মৃতি, অপূর্ণ স্বপ্ন আর বিচারের অপেক্ষা নিয়ে দিন কাটছে পরিবারগুলোর।
সম্প্রতি আনিশার মামা লিয়ন মীর ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুর্ঘটনার আগের দিনগুলো এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে। গত বছরের এই সময়েও আনিশা ছিল আমাদের ঘরের আলো। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলের জন্য প্রস্তুত হতো। সকাল ৭টার দিকে স্কুলে যেত। দুপুরে স্কুল শেষে কোচিং, এরপর বাসায় ফিরে গোসল, খাওয়া আর পড়াশোনা। এভাবেই চলত তার ব্যস্ত দিন।
লিয়ন মীর বলেন, সন্ধ্যার সময় কখনও সাধারণ বিষয়ের শিক্ষকের কাছে, কখনও আরবি শিক্ষকের কাছে পড়তে বসত আনিশা। পড়াশোনার পাশাপাশি ছিল ভাই ওসমানের সঙ্গে দুষ্টুমি আর খুনসুটি। ওসমানের (আনিশার ছোট ভাই) সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া হতো। আবার সেই ঝগড়ার মধ্যেও ছিল অনেক ভালোবাসা। প্রায় প্রতিদিন নিজের টিফিন থেকে ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসত আনিশা। কখনও ১০ টাকার বাটার বান, কখনও ৫ টাকার কেক, আবার কখনও চিপস। তবে খাবার ভাগাভাগি নিয়েও চলত দুই ভাইবোনের ছোট ছোট ঝগড়া।
তিনি আরও বলেন, ওসমানের জন্য নিয়ে আসত, আবার নিজেও ভাগ বসাত। এটা নিয়ে আবার ঝগড়া। আমি বিচার করতে গেলে আনিশা বলত, ‘আমি না খেয়ে নিয়ে আসছি, ওসমান সব একা খেতে চায়। কখনও সব খাবার ভাইকে দিয়ে দিত, আবার কখনও অভিমান করে কিছুই দিতে চাইত না। এমন ছোট ছোট ঘটনা নিয়েই কেটে যাচ্ছিল পরিবারের দিনগুলো। কী যে আলোময় ছিল আমাদের ঘর। আমাদের পরীর মতো বাচ্চাটা হাসি, খেলাধুলা আর চিৎকারে পুরো ঘর ভরে রাখত।’
তার আক্ষেপ, সেই স্বাভাবিক জীবনে যে এত দ্রুত অন্ধকার নেমে আসবে, তা কেউ ভাবেনি। একটি দুর্ঘটনা আমাদের পুরো পরিবার কেড়ে নেয় তাদের পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় সদস্যকে।
লিয়ন মীর বলেন, ‘আমরা তো জানতাম না, আমাদের হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন সময় আছে। জানতাম না, স্কুলে যাওয়া আমার বাচ্চাটা আর কোনো দিন ঘরে ফিরবে না। যদি জানতাম স্কুলে যাওয়ার পর আনিশা আর ফিরবে না, তাহলে কি তাকে যেতে দিতাম? কোনোভাবেই দিতাম না। আমার নিজের প্রাণ গেলেও দিতাম না।’
দুর্ঘটনার দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর গাড়িতে করে যাওয়ার সময় বারবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম, যেন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে। আমি চাচ্ছিলাম অলৌকিক কিছু ঘটুক। আমার আনসুর (আনিশা) নিথর দেহে প্রাণ ফিরে আসুক। আমার প্রাণ নিয়ে হলেও যেন আনসুর প্রাণ ফিরে আসে। কিন্তু সেই প্রার্থনা আর পূরণ হয়নি। আনিশাকে শেষ পর্যন্ত মাটির ঘরে রেখে আসতে হয়েছে পরিবারকে।
একইভাবে দুর্ঘটনায় নিহত আরেক শিক্ষার্থী আফিয়াসহ অন্যান্য পরিবারগুলোও মানসিক বিপর্যস্ত বলেও জানান তিনি।
এদিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর বড় একটি দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং বিচার। সরকারি সহায়তার অর্থ নিয়েও কয়েকটি পরিবারের অবস্থান ভিন্ন। তারা বলছেন, হারানো সন্তানের মূল্য কোনো অর্থে পূরণ হওয়ার নয়।
দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বলেন, সরকার নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে তারা সেই অর্থ গ্রহণ করেননি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পৃথিবী, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ চলে গেছে। তার বিনিময়ে কী ২০ লাখ টাকা হতে পারে? একটি আহত শিশুর মূল্য কী ৫ লাখ টাকা হতে পারে? এটা কোনোভাবেই হয় না।’
মিনহাজ রহমান আরও বলেন, অর্থ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি কোনো ধরনের বিরোধ বা হয়রানির কারণে নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানানো হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সরকার আমাদের অনুরোধ করেছে গ্রহণ করার জন্য, আমরাও আমাদের অবস্থান জানিয়ে আবেদন করেছি।
প্রদানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা জানিয়ে মিনহাজ রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের চাওয়া হচ্ছে- সরকার আমাদের করা রিট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তবে সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। আমরা আমাদের কথাগুলো, আমাদের কষ্টের কথা সরাসরি জানাতে চাই।’
তিনি জানন, নিহতদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে করা একটি রিট বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই রিটে নিহতদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ নয়, জবাবদিহির দাবি স্বজনদের
এদিকে নিহত আনিশার মামা লিয়ন মীরও বলেন, পরিবারের কাছে অর্থের চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ঘটনার বিচার। ক্ষতিপূরণ বিচারের একটি অংশ হতে পারে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিচার শেষ হয়ে যায় না।
তার দাবি, দুর্ঘটনার তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্তে যাদের দায়ের কথা উঠে এসেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
‘সেদিন যদি স্কুলে না পাঠাতাম, আজও কোলে থাকত আনিশা’
সেদিনের সকালটি অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। তবে সেটিই যে একটি পরিবারের জীবনের শেষ স্বাভাবিক সকাল হয়ে থাকবে, তা কেউ জানত না। ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলের পোশাক পরে, ব্যাগ কাঁধে নিয়ে যে শিশুটি বের হয়েছিল, সে আর ফিরে আসেনি ঘরে। ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার পর ফাতেমা আক্তার আনিশার পরিবারের কাছে প্রতিটি দিন এখন স্মৃতির ভারে নুয়ে থাকা এক দীর্ঘ অপেক্ষা।
‘সেদিন যদি জানতাম, আমার সন্তান স্কুলে গিয়ে আর ফিরবে না, কোনো দিন তাকে স্কুলে যেতে দিতাম না’—এই আক্ষেপ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন আনিশার স্বজনেরা। একসময় যে ঘর ভরে থাকত তার হাসি, খুনসুটি আর ছোট ছোট আবদারে, সেই ঘরেই এখন বাজে হারানোর নীরবতা। আনিশার টিফিন ভাগ করে খাওয়া, ছোট ভাই ওসমানের সঙ্গে ঝগড়া, আবার কিছুক্ষণ পরই মিলেমিশে যাওয়া—এসব স্মৃতিই এখন পরিবারের কাছে বেঁচে থাকার অবলম্বন।
আনিশার মতো যে শিশুরা প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুলে গিয়েছিল, তাদের অনেকেই আর ঘরে ফেরেনি। উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই দিনেই। হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের স্মৃতি, অপূর্ণ স্বপ্ন আর বিচারের অপেক্ষা নিয়ে দিন কাটছে পরিবারগুলোর।
সম্প্রতি আনিশার মামা লিয়ন মীর ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুর্ঘটনার আগের দিনগুলো এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে। গত বছরের এই সময়েও আনিশা ছিল আমাদের ঘরের আলো। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলের জন্য প্রস্তুত হতো। সকাল ৭টার দিকে স্কুলে যেত। দুপুরে স্কুল শেষে কোচিং, এরপর বাসায় ফিরে গোসল, খাওয়া আর পড়াশোনা। এভাবেই চলত তার ব্যস্ত দিন।
লিয়ন মীর বলেন, সন্ধ্যার সময় কখনও সাধারণ বিষয়ের শিক্ষকের কাছে, কখনও আরবি শিক্ষকের কাছে পড়তে বসত আনিশা। পড়াশোনার পাশাপাশি ছিল ভাই ওসমানের সঙ্গে দুষ্টুমি আর খুনসুটি। ওসমানের (আনিশার ছোট ভাই) সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া হতো। আবার সেই ঝগড়ার মধ্যেও ছিল অনেক ভালোবাসা। প্রায় প্রতিদিন নিজের টিফিন থেকে ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসত আনিশা। কখনও ১০ টাকার বাটার বান, কখনও ৫ টাকার কেক, আবার কখনও চিপস। তবে খাবার ভাগাভাগি নিয়েও চলত দুই ভাইবোনের ছোট ছোট ঝগড়া।
তিনি আরও বলেন, ওসমানের জন্য নিয়ে আসত, আবার নিজেও ভাগ বসাত। এটা নিয়ে আবার ঝগড়া। আমি বিচার করতে গেলে আনিশা বলত, ‘আমি না খেয়ে নিয়ে আসছি, ওসমান সব একা খেতে চায়। কখনও সব খাবার ভাইকে দিয়ে দিত, আবার কখনও অভিমান করে কিছুই দিতে চাইত না। এমন ছোট ছোট ঘটনা নিয়েই কেটে যাচ্ছিল পরিবারের দিনগুলো। কী যে আলোময় ছিল আমাদের ঘর। আমাদের পরীর মতো বাচ্চাটা হাসি, খেলাধুলা আর চিৎকারে পুরো ঘর ভরে রাখত।’
তার আক্ষেপ, সেই স্বাভাবিক জীবনে যে এত দ্রুত অন্ধকার নেমে আসবে, তা কেউ ভাবেনি। একটি দুর্ঘটনা আমাদের পুরো পরিবার কেড়ে নেয় তাদের পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় সদস্যকে।
লিয়ন মীর বলেন, ‘আমরা তো জানতাম না, আমাদের হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন সময় আছে। জানতাম না, স্কুলে যাওয়া আমার বাচ্চাটা আর কোনো দিন ঘরে ফিরবে না। যদি জানতাম স্কুলে যাওয়ার পর আনিশা আর ফিরবে না, তাহলে কি তাকে যেতে দিতাম? কোনোভাবেই দিতাম না। আমার নিজের প্রাণ গেলেও দিতাম না।’
দুর্ঘটনার দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর গাড়িতে করে যাওয়ার সময় বারবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম, যেন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে। আমি চাচ্ছিলাম অলৌকিক কিছু ঘটুক। আমার আনসুর (আনিশা) নিথর দেহে প্রাণ ফিরে আসুক। আমার প্রাণ নিয়ে হলেও যেন আনসুর প্রাণ ফিরে আসে। কিন্তু সেই প্রার্থনা আর পূরণ হয়নি। আনিশাকে শেষ পর্যন্ত মাটির ঘরে রেখে আসতে হয়েছে পরিবারকে।
একইভাবে দুর্ঘটনায় নিহত আরেক শিক্ষার্থী আফিয়াসহ অন্যান্য পরিবারগুলোও মানসিক বিপর্যস্ত বলেও জানান তিনি।
এদিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর বড় একটি দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং বিচার। সরকারি সহায়তার অর্থ নিয়েও কয়েকটি পরিবারের অবস্থান ভিন্ন। তারা বলছেন, হারানো সন্তানের মূল্য কোনো অর্থে পূরণ হওয়ার নয়।
দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বলেন, সরকার নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে তারা সেই অর্থ গ্রহণ করেননি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পৃথিবী, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ চলে গেছে। তার বিনিময়ে কী ২০ লাখ টাকা হতে পারে? একটি আহত শিশুর মূল্য কী ৫ লাখ টাকা হতে পারে? এটা কোনোভাবেই হয় না।’
মিনহাজ রহমান আরও বলেন, অর্থ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি কোনো ধরনের বিরোধ বা হয়রানির কারণে নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানানো হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সরকার আমাদের অনুরোধ করেছে গ্রহণ করার জন্য, আমরাও আমাদের অবস্থান জানিয়ে আবেদন করেছি।
প্রদানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা জানিয়ে মিনহাজ রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের চাওয়া হচ্ছে- সরকার আমাদের করা রিট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তবে সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। আমরা আমাদের কথাগুলো, আমাদের কষ্টের কথা সরাসরি জানাতে চাই।’
তিনি জানন, নিহতদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে করা একটি রিট বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই রিটে নিহতদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ নয়, জবাবদিহির দাবি স্বজনদের
এদিকে নিহত আনিশার মামা লিয়ন মীরও বলেন, পরিবারের কাছে অর্থের চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ঘটনার বিচার। ক্ষতিপূরণ বিচারের একটি অংশ হতে পারে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিচার শেষ হয়ে যায় না।
তার দাবি, দুর্ঘটনার তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্তে যাদের দায়ের কথা উঠে এসেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: July 22, 2026, 3:18 am