পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, শিক্ষক অবরুদ্ধ

  বিশেষ প্রতিনিধি    06-10-2026    8
পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, শিক্ষক অবরুদ্ধ

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় সহকারী শিক্ষক আকলিমা আক্তারকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিক্ষোভের কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

পরে খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ঘটনাস্থলে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক নুর আজমকে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার বিভিন্ন সময় হেনস্তা ও হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন প্রধান শিক্ষক। সোমবার দুপুরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। ওই রাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন।

নুর আজমের ভাগনে আব্দুস সালাম মিঠু বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার প্রায়ই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। তারা নানাভাবে তার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করতেন। তাদের অত্যাচারের কারণেই প্রধান শিক্ষক হঠাৎ মারা গেছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্ত চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৪০ দিন আগে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে আমার একটু তর্কাতর্কি ও কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ভুলে গিয়ে আমরা আবার স্বাভাবিকভাবেই ছিলাম। কিন্তু এখন তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিছু লোকজন মব সৃষ্টি করে এসব করছে।

ঘটনাস্থলে থাকা পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সকালে বিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো শুনেছি। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। যে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তায় বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তারা আগামীকাল বিদ্যালয়ে আসবেন কি না এবং তাদের পাঠদানের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন