নতুন পোশাকে পূজার সাজ, কেনাকাটায় জমজমাট টেরিবাজার

  বিশেষ প্রতিনিধি    14-10-2026    9
নতুন পোশাকে পূজার সাজ, কেনাকাটায় জমজমাট টেরিবাজার

হাতে বাকি আর মাত্র ছয় দিন। শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে নতুন পোশাকে সাজতে প্রতিদিনই বিভিন্ন বিপণিবিতানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তেমনি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরের টেরিবাজারে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাকাটা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের উপজেলা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাজারে আসছেন ক্রেতারা। পছন্দের পোশাক কিনতে দোকানে দোকানে ঘুরছেন তারা।

শাড়ি, থ্রি-পিস, ফিউশন ও ফার্সি ধাঁচের সালোয়ার-কামিজ, লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে শিশুদের বাহারি পোশাক সব ধরনের পণ্যের সমাহারে জমজমাট হয়ে উঠছে নগরের অন্যতম বৃহৎ এই কাপড়ের বাজার। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, ব্যাগ, অলংকার ও প্রসাধনীর দোকানেও বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টেরিবাজারে পূজার কেনাকাটা করতে এসেছেন কাঞ্চন সুশীল। সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানরা। তবে কেনাকাটায় বড় মেয়ে মৃত্তিকা সুশীলের পছন্দই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তার কাছে। তার পছন্দ ফিউশন ও ফার্সি ধাঁচের সালোয়ার-কামিজ। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে নিজের পছন্দের পোশাক খুঁজছেন তিনি। গিয়েছেন পাঠান বাজারে। পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কেনার পাশাপাশি মেয়ের পছন্দের পোশাকটিও কিনে দিতে চান কাঞ্চন সুশীল।

ব্যবসায়ীরা জানান, পূজার কেনাকাটা শেষদিকে এসে আরও জমে উঠছে। সকালে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাজারে ভিড় বাড়ে। শিশুদের পোশাকের চাহিদা এ বছর কিছুটা বেশি।

পাশাপাশি জয়পুরের জারদৌসি শাড়ি, দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস এবং বিভিন্ন নকশার কাপড়ের প্রতিও ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি আধুনিক নকশার ব্যাগ, জুতা, প্রসাধনী ও গৃহসজ্জার সামগ্রীও কিনছেন অনেকে। তবে পণ্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদের দরকষাকষি চলছে।

টেরিবাজারের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, পূজার আগে বেচাকেনা আরও বাড়বে। তাদের মতে, ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় রেখে বাজারে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও নতুন নকশার পণ্য তোলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে মার্কেট বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি থাকছে। এখন পর্যন্ত বিক্রি মোটামুটি ভালো।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে মার্কেট বন্ধ হওয়া পর্যন্ত জমজমাট থাকে। বিক্রিও মোটামুটি ভালো। আশা করছি, দু-একদিন পর বেচাকেনা আরও বাড়বে। ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে বাজারে সব ধরনের নতুন নকশার কাপড় রাখা হয়েছে।

তবে টেরিবাজারে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। আবদুল মান্নান বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে ক্রেতাদের হাঁটাচলায় অসুবিধা হচ্ছে, দুর্ঘটনাও ঘটছে। বিষয়টি লিখিতভাবে ট্রাফিক বিভাগকে জানিয়েছি। আশা করছি, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে উৎসবকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মীরা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে সুযোগ বুঝে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডের পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের দামও নতুন করে বাড়ানো হয়। ঈদ, দুর্গাপূজা ও বাংলা নববর্ষের মতো উৎসবে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

তিনি বলেন, বাজারে এ ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মূল্য কারসাজি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধ করতে বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।

সব মিলিয়ে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে টেরিবাজারে বাড়ছে ক্রেতাদের পদচারণা। পরিবারের সদস্যদের পছন্দ, নতুন নকশা ও বাজেটের সমন্বয় করে পূজার কেনাকাটা সারছেন নগরবাসী। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, বাজারে বেচাকেনা তত বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জাতীয়-এর আরও খবর

আরও পড়ুন