মুনসুর খান প্লাজার আগুন দেখালো পুরান ঢাকার অগ্নিঝুঁকির চিত্র

  বিশেষ প্রতিনিধি    14-10-2026    14
মুনসুর খান প্লাজার আগুন দেখালো পুরান ঢাকার অগ্নিঝুঁকির চিত্র

পুরান ঢাকার চকবাজারে মুনসুর খান প্লাজায় আগুন নেভাতে গিয়ে আবারও সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের অগ্নিঝুঁকির চিত্র। গত জানুয়ারিতে ওই ভবন পরিদর্শনের পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি দেখতে পেয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপর ভবন মালিককে নোটিশ করা হয়, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তবে ভবন মালিকের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

মুনসুর খান প্লাজার সাততলা ভবনটির ষষ্ঠ তলার একটি দোকান থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল সরানো এবং আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলে আরও কয়েক ঘণ্টা।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে একসঙ্গে হাজির হয় একাধিক বাধা। সরু গলিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে সমস্যা, তীব্র যানজট, পর্যাপ্ত পানির অভাব, ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকা এবং তালাবদ্ধ গুদামে বিপুল পরিমাণ মালামাল-সব মিলিয়ে আগুন নেভানোর কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দোকান, তৃতীয় তলায় পূবালী ব্যাংকের অফিস। চতুর্থ থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত সব ফ্লোরে গোডাউন। প্রতিটি গোডাউন একেকটি হিট চেম্বারের মতো। গোডাউনে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র দরজা রয়েছে। ভেতরে অন্য কোনো দরজা বা জানালা নেই। মালামাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আগুনের কারণে গোডাউনের ভেতরের দেয়ালগুলো উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। সেখানে পানি ছিটালে প্রচণ্ড তাপের কারণে ধোঁয়া তৈরি হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও গুদামের মালামালের নিচে তাপ ও ধোঁয়া থাকায় পুনরায় আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা ছিল।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, মুনসুর খান প্লাজার এই আগুন শুধু একটি ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ঘটনা নয়; পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই ভবনে দোকান ও গুদাম, সিঁড়িতে মালামাল, পাশাপাশি ভবন, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং আগুন লাগলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতা- সবই এই এলাকার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের প্রধান বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, “গত জানুয়ারিতে ইন্সপেকশন বিভাগের একজন ইন্সপেক্টর পরিদর্শনের পর সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি দেখতে পান। এরপর অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারসহ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়। কোনো জবাব আসেনি। ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।”

পুরান ঢাকায় আগুনের ভয়াবহতা নতুন নয়। পুরান ঢাকার চকবাজারে মুনসুর খান প্লাজার এই আগুন নতুন করে রাসায়নিক গুদাম, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, পাশাপাশি ভবন, সরু রাস্তা ও অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি বিভিন্ন সময়ে বড় দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিগুলো সামনে এনেছে। ২০১০ সালের নিমতলী, ২০১৯ সালের চুড়িহাট্টা, ২০২১ সালের আরমানিটোলা এবং ২০২৬ সালের চকবাজারের মুনসুর খান প্লাজার আগুন—প্রতিটি ঘটনাই পুরান ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জাতীয়-এর আরও খবর

আরও পড়ুন