ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কুখ্যাত বস্তি এলাকা ‘সিটি অব গড’। সিনেমা ও উপন্যাসে যা উঠে এসেছে এক অন্ধকার জগতের প্রতিচ্ছবি হিসেবে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকাটিকেও আজ নেতিবাচকভাবে সেই ‘সিটি অব গড’-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে—যেখানে আধিপত্য, অপরাধ ও রক্তের হোলি খেলা দশকের পর দশক ধরে চলমান।
কেন এই তুলনা?
সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী দলগুলোর বেপরোয়া কর্মকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ১২ এপ্রিল প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সন্ত্রাসী ‘অ্যালেক্স ইমন’-এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যটি যেন সিনেমার সেই কুখ্যাত শেষ দৃশ্যকেই মনে করিয়ে দেয়। অপরাধী দলের আধিপত্য, দখলবাজি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এলাকাটি আজ এই তকমা পেয়েছে।
অপরাধের শিকড় ও বিস্তৃতি
ষাটের দশকে আবাসন প্রকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা মোহাম্মদপুর সময়ের পরিক্রমায় জলাভূমি থেকে জনাকীর্ণ আবাসিক এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান এবং আর্থসামাজিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে আশির দশক থেকেই সেখানে গড়ে ওঠে ছোট-বড় অনেক অপরাধী গ্যাং। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে অর্ধশত ছোট-বড় অপরাধী দল সক্রিয়, যাদের প্রধান আয়ের উৎস মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি।
অপরাধের নেপথ্যে: আশ্রয় ও বিচারহীনতা
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আশ্রয় ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রশ্রয় পেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে অপরাধ প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায়। গত ২০ মাসে মোহাম্মদপুরে অন্তত ২৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
উত্তরণের পথ কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায়, মোহাম্মদপুরের মতো জনঘনত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধ দমনে প্রয়োজন:
সমন্বিত ও সক্রিয় পুলিশিং: অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের আগাম নজরদারিতে রাখা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা: অপরাধী গোষ্ঠীর সব ধরণের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় চিরতরে বন্ধ করা।
বিচার নিশ্চিতকরণ: অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে শাস্তির বিধান কার্যকর করা।
সামাজিক পুনর্বাসন: বিশেষ করে জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তি এলাকার তরুণদের শিক্ষার সুযোগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা।
মোহাম্মদপুরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা আজ এই অপরাধী দলের কবল থেকে মুক্তি চান। তাঁরা চান তাদের এলাকাটি যেন গ্যাং কালচারের পরিবর্তে একটি নিরাপদ আবাসন হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি পায়। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতাই পারে এই জনপদকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।
মোহাম্মদপুর: এক ‘সিটি অব গড’-এর আখ্যান ও বাস্তবতা
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর কুখ্যাত বস্তি এলাকা ‘সিটি অব গড’। সিনেমা ও উপন্যাসে যা উঠে এসেছে এক অন্ধকার জগতের প্রতিচ্ছবি হিসেবে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকাটিকেও আজ নেতিবাচকভাবে সেই ‘সিটি অব গড’-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে—যেখানে আধিপত্য, অপরাধ ও রক্তের হোলি খেলা দশকের পর দশক ধরে চলমান।
কেন এই তুলনা?
সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী দলগুলোর বেপরোয়া কর্মকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ১২ এপ্রিল প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সন্ত্রাসী ‘অ্যালেক্স ইমন’-এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যটি যেন সিনেমার সেই কুখ্যাত শেষ দৃশ্যকেই মনে করিয়ে দেয়। অপরাধী দলের আধিপত্য, দখলবাজি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এলাকাটি আজ এই তকমা পেয়েছে।
অপরাধের শিকড় ও বিস্তৃতি
ষাটের দশকে আবাসন প্রকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা মোহাম্মদপুর সময়ের পরিক্রমায় জলাভূমি থেকে জনাকীর্ণ আবাসিক এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান এবং আর্থসামাজিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে আশির দশক থেকেই সেখানে গড়ে ওঠে ছোট-বড় অনেক অপরাধী গ্যাং। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে অর্ধশত ছোট-বড় অপরাধী দল সক্রিয়, যাদের প্রধান আয়ের উৎস মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি।
অপরাধের নেপথ্যে: আশ্রয় ও বিচারহীনতা
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আশ্রয় ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রশ্রয় পেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে অপরাধ প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায়। গত ২০ মাসে মোহাম্মদপুরে অন্তত ২৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
উত্তরণের পথ কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায়, মোহাম্মদপুরের মতো জনঘনত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধ দমনে প্রয়োজন:
সমন্বিত ও সক্রিয় পুলিশিং: অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের আগাম নজরদারিতে রাখা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা: অপরাধী গোষ্ঠীর সব ধরণের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় চিরতরে বন্ধ করা।
বিচার নিশ্চিতকরণ: অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে শাস্তির বিধান কার্যকর করা।
সামাজিক পুনর্বাসন: বিশেষ করে জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তি এলাকার তরুণদের শিক্ষার সুযোগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা।
মোহাম্মদপুরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা আজ এই অপরাধী দলের কবল থেকে মুক্তি চান। তাঁরা চান তাদের এলাকাটি যেন গ্যাং কালচারের পরিবর্তে একটি নিরাপদ আবাসন হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি পায়। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতাই পারে এই জনপদকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: July 22, 2026, 3:18 am