বুধবার, জুলাই-২২, ২০২৬
“যখন পৃথিবী সীমান্ত ভুলে যায়”
শান্তি আসে না পতাকার চিৎকারে,
না বিজয়ের উল্লাসে কারো পরাজয়ের উপর দাঁড়িয়ে—
শান্তি কোনো জয়ের পোশাক পরে না।
সে আসে খালি পায়ে,
অহংকারের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে,
ভাষাহীন,
তবু ভাঙা হৃদয় তাকে চিনে নেয়।
এই পৃথিবী আমাদের নিষ্ঠুরতা মুখস্থ করেছে—
প্রতিটি ক্ষত, ধুলোর বুকে লেখা ইতিহাস,
প্রতিটি যুদ্ধ, বেসুরো এক প্রার্থনা।
তবু সে ঘুরে চলে…
মনে হয় ক্ষমাই তার একমাত্র নিয়ম।
বল তো—
আকাশ কে শিখিয়েছে সব রঙ ধারণ করতে,
কাউকে বেছে না নিয়ে?
নদী কে শিখিয়েছে প্রতিটি তীর ছুঁতে,
কাউকে শত্রু না ভেবে?
আর আমরা—
ভয়ের ইট দিয়ে দেয়াল তুলি,
দূরত্বকে করি স্থাপত্য—
আমরা হাওয়াকেও ভাগ করি,
আর বলি—“এটা আমার।”
শান্তি কোনো নিরীহ স্বপ্ন নয়,
এ এক ভার—
যা কেবল সাহসীরাই বহন করে।
সে প্রশ্ন করে—
তুমি কি ছাড়তে পারবে ঘৃণাকে,
যখন সেটাই তোমার পরিচয়?
তুমি কি ভুলতে পারবে সেই ইতিহাস,
যা তোমাকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শিখিয়েছে?
এখানে কোনো সংগীত নেই,
কোনো স্মৃতিস্তম্ভ যথেষ্ট উঁচু নয়—
শুধু হৃদয়ের নীরব বিদ্রোহ,
যেখানে মানুষ আঘাত করতে অস্বীকার করে,
যখন আঘাতটাই সহজ মনে হয়।
আর একদিন, হয়তো—
অলৌকিকতায় নয়,
অগণিত অদৃশ্য দয়ার ভিতর দিয়ে—
পৃথিবী ক্লান্ত হয়ে পড়বে রক্তপাত থেকে।
সেদিন
কেউ শান্তির ঘোষণা দেবে না—
সে নিজেই এসে দাঁড়াবে,
ভোরের মতো—
যার আসতে কোনো অনুমতি লাগে না।