দেশীয় এয়ারলাইন শক্তিশালী না হলে বাংলাদেশ এভিয়েশন হাব হবে না

  বিশেষ প্রতিনিধি    13-09-2026    3
দেশীয় এয়ারলাইন শক্তিশালী না হলে বাংলাদেশ এভিয়েশন হাব হবে না

দেশীয় এয়ারলাইনগুলোকে শক্তিশালী না করে শুধু বড় বিমানবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। একইসঙ্গে তিনি দেশীয় এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি এবং বিমান চলাচল খাতে নীতিগত সংস্কারের আহ্বানও জানিয়েছেন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শুধু এভিয়েশন হাব’ বললেই এভিয়েশন হাব হওয়া যায় না। দেশীয় এয়ারলাইনগুলোকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। বিদেশি এয়ারলাইন এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করবে না। দেশীয় এয়ারলাইনকে সক্ষম করে তুলতে হবে এবং তাদের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে হবে।

তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে ইউএস-বাংলার এমডি বলেন, টার্মিনাল নির্মাণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এয়ারলাইন অপারেটরদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ করা হয়নি। অথচ তৃতীয় টার্মিনাল মূলত অপারেটর ও যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনা করেই তৈরি হওয়ার কথা। আমি নিজে পাশাপাশি অন্য এয়ারলাইন অপারেটরদেরও তৃতীয় টার্মিনালে কী ধরনের সুবিধা প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ হয়নি।

এভিয়েশন হাব হিসেবে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ এলাকা প্রায় ১০০ বিঘা। সেখানে যাত্রীদের দুই থেকে ছয় ঘণ্টা সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত কেনাকাটা, বিনোদন ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে শুধু বড় টার্মিনাল নির্মাণ করে এভিয়েশন হাব হওয়ার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

এভিয়েশন খাতের নীতিগত সংস্কারের প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১৯৮৪ সালের বিধিমালার পরিবর্তে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকর হলে এভিয়েশন খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করি। আন্তর্জাতিক মান ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

ইউএস-বাংলা বাংলাদেশে একমাত্র আইএটিএ সদস্য এয়ারলাইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার ফলে এয়ারলাইনগুলোর বড় ধরনের ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একটি বোয়িং উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের দাম প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার এবং নতুন ইঞ্জিনের দাম প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার। ড্রিমলাইনারের একটি ইঞ্জিনের দাম ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ইঞ্জিন বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়ায় সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। নতুন নীতির ফলে এ ধরনের ব্যয় কমবে।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন