সাতক্ষীরার গ্রামগুলোতে সোনালি আঁশের ব্যস্ততা, কৃষকের মুখে হাসি

  বিশেষ প্রতিনিধি    18-09-2026    2
সাতক্ষীরার গ্রামগুলোতে সোনালি আঁশের ব্যস্ততা, কৃষকের মুখে হাসি

সকালের রোদ একটু চড়া হতেই গ্রামের সড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে পড়ছে সোনালী রং। কোথাও পানিতে জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন কৃষকরা, কোথাও সড়কের ওপর মেলে দেওয়া হয়েছে সদ্য ধোয়া পাট। পাশেই বড় বড় আঁটি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পাটকাঠি। কেউ রোদে শুকানোর জন্য আঁশ উল্টে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো পাটের আঁটি বাঁধছেন।

সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন এমনই ব্যস্ততা। পাট কাটার পর আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের দামও মোটামুটি ভালো থাকায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

পাট কাটার পর ১৫ থেকে ২০ দিন পানিতে জাগ দিয়ে রাখার পর আঁশ ছাড়ানোর উপযোগী হয়। বর্তমানে জেলার বেশির ভাগ এলাকায় চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ। কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে কৃষকরা পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন। আবার কোথাও ভ্যানগাড়িতে পাটের বোঝা নিয়ে বাজারের দিকে যেতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

সাতক্ষীরা আশাশুনি সড়কর পাশে ধুলিহর এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে পাটের আঁটি বাঁধছিলেন কৃষক মাজেদ আলী। তিনি বলেন, ১৯ দিন পানিতে জাগ দিয়ে রাখার পর তিন-চার দিন আগে পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়েছেন। এখন আঁটি বেঁধে শুকাচ্ছেন। ধান কাটার পর জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর ১১ হাজার ৬০৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৬৮ হেক্টর।

চলতি মৌসুমে এসব জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বেলে প্রায় ১৮২ কেজি পাট থাকে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। এখনো কয়েকটি এলাকায় পাট কাটা চলছে। কৃষকরা প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ ফলনের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পাটের পাতা মাটির উর্বরতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পাটের আঁশ ও পাটকাঠি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে জেলায় পাটভিত্তিক কোনো শিল্প না থাকায় উৎপাদিত পাট স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও বিক্রি হয়।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন