রাজধানীর বংশাল থানাধীন সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের ছাত্র জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাকে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।
তিনি জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর জিসান নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা সাজু মিয়া। জিডি নম্বর ১১৩১।
নিখোঁজ জিডির তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই (নিরস্ত্র) রাশেদুল ইসলাম মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং অন্যান্য ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে জিসানকে মাদরাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর সে কোন দিকে গেছে সে বিষয়ে আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জিসানের ছবি বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাবা সাজু মিয়ার মোবাইলের ইমোতে অপরিচিত ব্যক্তির ফোন আসে। ফোনকারী দাবি করেন, জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ছেড়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরে দেনদরবারের এক পর্যায়ে সাজু মিয়া ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। ফোনকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে তিনি ১০ হাজার টাকা পাঠান। টাকা দেওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর জিসানকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে আবার ফোন করে আরও টাকা দাবি করা হয়।
বংশাল থানা পুলিশ ওই বিকাশ নম্বরটি পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, নম্বরটির ঠিকানা গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকায়। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিকাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বংশাল থানার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলামকে দেওয়া হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাদরাসার এক ছাত্রের মোবাইল ফোন ও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জিসান লুকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে তা অস্বীকার করে। পরে তার বিছানার বালিশের নিচ থেকে ওই মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়।
পুলিশের ধারণা, মোবাইল নেওয়ার অভিযোগে ভয়ে জিসান মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে সে নিজেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে একটি লঞ্চে চাঁদপুরে চলে যায়।
চাঁদপুরে গিয়ে জিসানের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার সৈকত নামে এক অটো মেকানিকের পরিচয় হয়। একই দিন সৈকতের সঙ্গে আবার ঢাকায় ফিরে আসে জিসান। এরপর সে সৈকতের গ্যারেজে কাজ করে তার বাসায় অবস্থান করতে থাকে।
পুলিশ জানায়, সৈকতের কাছে জিসান নিজের পরিচয় দিয়ে বলে, তার বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। পরে জিসানের কথাবার্তায় সৈকতের সন্দেহ হলে তার কাছ থেকে জিসানের খালার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম গিয়ে জিসানকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, জিসানের বাবার কাছে অনলাইনে টাকা দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতারকচক্র এখনও ইমোতে ফোন করে টাকা দাবি করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপহরণ নয়, নিজেই মাদরাসা থেকে বেরিয়েছিল জিসান : ডিসি লালবাগ
রাজধানীর বংশাল থানাধীন সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের ছাত্র জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাকে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।
তিনি জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর জিসান নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা সাজু মিয়া। জিডি নম্বর ১১৩১।
নিখোঁজ জিডির তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই (নিরস্ত্র) রাশেদুল ইসলাম মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং অন্যান্য ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে জিসানকে মাদরাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর সে কোন দিকে গেছে সে বিষয়ে আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জিসানের ছবি বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাবা সাজু মিয়ার মোবাইলের ইমোতে অপরিচিত ব্যক্তির ফোন আসে। ফোনকারী দাবি করেন, জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ছেড়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরে দেনদরবারের এক পর্যায়ে সাজু মিয়া ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। ফোনকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে তিনি ১০ হাজার টাকা পাঠান। টাকা দেওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর জিসানকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে আবার ফোন করে আরও টাকা দাবি করা হয়।
বংশাল থানা পুলিশ ওই বিকাশ নম্বরটি পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, নম্বরটির ঠিকানা গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকায়। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিকাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বংশাল থানার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলামকে দেওয়া হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাদরাসার এক ছাত্রের মোবাইল ফোন ও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জিসান লুকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে তা অস্বীকার করে। পরে তার বিছানার বালিশের নিচ থেকে ওই মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়।
পুলিশের ধারণা, মোবাইল নেওয়ার অভিযোগে ভয়ে জিসান মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে সে নিজেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে একটি লঞ্চে চাঁদপুরে চলে যায়।
চাঁদপুরে গিয়ে জিসানের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার সৈকত নামে এক অটো মেকানিকের পরিচয় হয়। একই দিন সৈকতের সঙ্গে আবার ঢাকায় ফিরে আসে জিসান। এরপর সে সৈকতের গ্যারেজে কাজ করে তার বাসায় অবস্থান করতে থাকে।
পুলিশ জানায়, সৈকতের কাছে জিসান নিজের পরিচয় দিয়ে বলে, তার বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। পরে জিসানের কথাবার্তায় সৈকতের সন্দেহ হলে তার কাছ থেকে জিসানের খালার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম গিয়ে জিসানকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, জিসানের বাবার কাছে অনলাইনে টাকা দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতারকচক্র এখনও ইমোতে ফোন করে টাকা দাবি করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: September 29, 2026, 3:48 am