ছেলে এলেই দাফন করা হবে নাসিমা খানের মরদেহ

  বিশেষ প্রতিনিধি    13-10-2026    3
ছেলে এলেই দাফন করা হবে নাসিমা খানের মরদেহ

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের পরিচিত মুখ ও প্রবীণ অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তার বড় ছেলে দেশে ফেরার পর শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার সময় ও স্থান চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সনি রহমান এক সংবাদ মাধ্যমে জানান, রোববার রাতে নাসিমা খানের মরদেহ উত্তরার লুবনা হাসপাতাল থেকে নেওয়ার পর গোসল শেষে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয় এবং সোমবার সকালে তা একটি হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়। অভিনেত্রীর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছাবেন। সেদিনই তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।

এদিকে নাসিমা খানের ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম নেওয়া নাসিমা খানের পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সূচনালগ্নে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক পরিচিতি ও দর্শকপ্রিয়তা পান তিনি। আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিমের মতো গুণী অভিনেতাদের বিপরীতে সফলভাবে অভিনয় করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের চলচ্চিত্রেও বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’, ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’ এবং লাহোরে নির্মিত ‘নয়ি লায়লা নয়া মজনু’, ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’, ‘আঁসু বন গয়ে মোতি’ ও ‘রোড টু সোয়াত’।

স্বাধীনতার পর রূপালী পর্দা থেকে কিছুদিনের জন্য দূরে সরলেও টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফিরেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন এই গুণী শিল্পী।

বিনোদন-এর আরও খবর

আরও পড়ুন