পুলিশের দেওয়া তথ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন, বাড়ছে রহস্য

  বিশেষ প্রতিনিধি    25-08-2026    3
পুলিশের দেওয়া তথ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন, বাড়ছে রহস্য

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিহতদের মুখের কাছে পাওয়া তরল পদার্থ কোনো রাসায়নিক বা কেমিক্যাল বার্নের কারণে নয়, মরদেহ পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মুখের রং ও চেহারায় এমন পরিবর্তন হয়েছে। তাদের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে মেলেনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস।

লাশের মুখ তরল পদার্থ বা এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছে— এমন গুঞ্জনেরও কোনো সত্যতা ময়নাতদন্তে মেলেনি দাবি করে তিনি বলেন, কয়েকদিন মরদেহ পড়ে থাকার কারণে মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ার মতো দেখিয়েছে। তাদের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে মেলেনি।

ময়নাতদন্তের সময় বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে বলে জানান এই চিকিৎসক।

এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, নিহত আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে তার চোখ বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

কতদিন মরদেহ পড়ে থাকলে এমন বীভৎস চেহারা ধারণ করতে পারে, তা তিনি স্পষ্ট করে জানাননি। তবে পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য জানিয়েছেন এবং মামলার এজাহারে থাকা তথ্য অনুযায়ী চারজন খুনের পর এবং ময়নাতদন্তের আগ পর্যন্ত তাদের মরদেহ সর্বোচ্চ ৪৮ থেকে ৫২ ঘণ্টা পড়ে ছিল।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন