ধর্ষণের পর শিশু হত্যা : নিহত কলির পা খুঁজতে সাত দিন পর ঘটনাস্থলে পুলিশ

  বিশেষ প্রতিনিধি    23-09-2026    6
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা : নিহত কলির পা খুঁজতে সাত দিন পর ঘটনাস্থলে পুলিশ

পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার পর তার মরদেহ উদ্ধারের সাত দিন পর ঘটনাস্থলে আবারও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া এলাকায় কলির মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে তার দুই পা খুঁজতে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি)।

মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের তল্লাশির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরে রাত ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন এই প্রতিবেদক। এরপর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ দাবি করেছিলেন, কলিকে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়নি।

জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কলির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় লাশ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশের ডোবায় তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনকে দিয়ে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করানো হয়।

তবে পুলিশের তল্লাশিতে এখন পর্যন্ত কলির দুই পা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, দাফনের সময় শিশুটির দুটি পা ছিল না। সেই পা কোথায় গেছে, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায় বলেন, স্থানীয়রা পা খুঁজে দেখতে চেয়েছিল, তাই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, শিশুটির স্বজনরা দাবি করছিলেন, পায়ের নিচের অংশের মাংস নেই। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালাই।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। ৭ দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছিলেন, তদন্তে উঠে এসেছে—মোস্তফার দোকানের পেছনের ঘরে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে আসামিরা পরিবারের সঙ্গে কলিকে খোঁজার পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভেও অংশ নেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করলেও ইয়াছিন আলী তা অস্বীকার করেছেন।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন