তিন বছরে আয় বেড়েছে হাজার টাকা, ব্যয় লাফিয়ে সাড়ে তিন হাজার!

  বিশেষ প্রতিনিধি    26-10-2026    7
তিন বছরে আয় বেড়েছে হাজার টাকা, ব্যয় লাফিয়ে সাড়ে তিন হাজার!

গত দুই বছরে উজ্জ্বল ইসলামের মাসিক আয় সাত থেকে আট হাজার টাকা বেড়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। তবে, আয় বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি তার সংসারে। সরকারি একটি সংস্থায় অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত উজ্জ্বলের আয়ের পুরোটাই চলে যায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে। ফলে প্রতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাকে ধারদেনা করে চলতে হয়।

পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকায় মা, স্ত্রী ও ছোট ভাইকে নিয়ে উজ্জ্বলের সংসার। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে মৌলিক প্রয়োজনগুলোতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে তাকে। খাদ্যতালিকা থেকে মাছ-মাংস কেনা যেমন কমাতে হয়েছে, তেমনি অর্থের টানাটানিতে মায়ের চিকিৎসার খরচও ছেঁটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

উজ্জ্বলের মতো নির্দিষ্ট আয়ের অনেক চাকরিজীবীই আজ একই সংকটে নিমজ্জিত। বেতন সামান্য বাড়লেও ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কাছে তা পুরোপুরি ফিকে হয়ে যাচ্ছে। একই সংকটে পড়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাবিবুল হাসান। স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবাকে নিয়ে তার পাঁচজনের সংসার। একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। দুই বছরে তার বেতন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এই সময়ে সংসারের খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আগে বেতন থেকে নিয়মিত ৫ থেকে ১০ শতাংশ সঞ্চয় করা গেলেও এখন আর কিছুই জমাতে পারছেন না; উল্টো মাসের শেষ সপ্তাহে তাকে ঋণ করতে হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে দেড় বছরের সন্তানের অস্ত্রোপচারের খরচ মেটাতে গিয়ে জমানো টাকা তো শেষ হয়েছেই, উল্টো ঋণ নিতে হয়েছে। সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে এখন ঠিকমতো বাজার করতেই হিমশিম খাচ্ছেন হাবিবুল। টাকার অভাবে গত মাসে সন্তানের ওষুধও কিনতে পারেননি তিনি।

স্ত্রী ও চার ছেলেকে নিয়ে মাহমুদ জামিলের ছয়জনের সংসার। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। ব্যয়বহুল বাসাভাড়া এড়াতে গাজীপুর থেকে প্রতিদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে অফিস করেন। দুই বছর আগে তার বেতন ছিল ২৮ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তা সত্ত্বেও মাস শেষ হওয়ার আগেই তাকে ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হয়।

চলতি বছর দুই ছেলের স্কুলের খরচ নতুন করে ব্যয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। স্কুল ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতেই তার মাসিক বেতনের প্রায় ৪০ শতাংশ চলে যায়। জমজ দুই ছেলের জন্য বাইরে থেকে দুধ কিনতে হয়। এর বাইরে গ্রামে থাকা মাকে প্রতি মাসে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা পাঠান তিনি। সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে সন্তানদের অনেক আবদারই পূরণ করতে পারছেন না মাহমুদ।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন