দূরত্ব ঘোচানোর উদ্যোগ নাকি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ?

  বিশেষ প্রতিনিধি    20-07-2026    5
দূরত্ব ঘোচানোর উদ্যোগ নাকি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ?

নতুন সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও সমন্বয় জোরদারে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য শরিক দলগুলোর প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাদের সরাসরি অবহিত করা এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি শরিকদের মতামতগুলো ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাসও বৈঠকে দেওয়া হতে পারে।

তবে সরকারের বিগত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ড ও পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে শরিকদের একাংশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়ায়, এই বৈঠকটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি রাজনৈতিক নতুন সমীকরণের সূচনা, তা নিয়ে অনেকের কৌতূহল আছে। পাশাপাশি এই বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী শরিকদের কী বার্তা দেবেন, সেটি নিয়েও দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

বিএনপির অন্যতম শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দাওয়াতপত্রে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। টুকটাক আলোচনা হয়তো হবে। প্রতিটি দল থেকে পাঁচজন করে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিরাট সংখ্যক লোক হবে। ফলে এ ধরনের বড় বৈঠকে সিরিয়াস রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ খুব একটা থাকে না। তারপরও আমার ধারণা, কিছু আলাপ-আলোচনা তো হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরিক দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, শরিকদের অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে গত ৫ মাসে সরকারের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সেই কারণে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে কোনো আলাপের সুযোগ হবে বলে মনে হয় না। তবে প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে আলোচনা তোলেন, তখন নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

এই নেতা আরও বলেন, আলোচনার সুযোগ তৈরি হলে তখন বিগত ৫ মাসে সরকারের জার্নির ভালো দিকগুলো যেমন আসবে, তেমনি রাজনৈতিক দিক থেকে সরকার কিছুটা পিছিয়েও যে পড়েছে এবং মাঠ যে কিছুটা জামায়াতকে ছেড়ে দিয়েছে, সেগুলোও আমরা আলোচনায় আনব। এছাড়া সরকার আইনশৃঙ্খলা ও জানমালের নিরাপত্তায় খুব একটা ভালো করতে পারছে না, এ বিষয়গুলোও আসবে।

শরিক দলের নেতারা বলছেন, বৈঠকের আলোচনায় সরকারের বিগত পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসবে। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের জন্য ‘রেইনবো সরকার’ বা জাতীয় সরকার গঠনের যে কথা বলা হয়েছিল, তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন শরিক নেতারা।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন